‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইস্যুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়: মন্ত্রীর মন্তব্যের কড়া জবাবে এনসিপি নেতারা

‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইস্যুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়

সম্প্রতি ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর একটি মন্তব্যের জেরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতা এবং বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

বিতর্কের সূত্রপাত

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একটি বক্তব্যে বলেন, “ইনকিলাব জিন্দাবাদ এগুলোর সঙ্গে বাংলার কোনো সম্পর্ক নেই।” তার এই মন্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা এবং এনসিপির শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এর কড়া প্রতিবাদ জানান।

নেতৃবৃন্দের ভাইরাল স্ট্যাটাস ও প্রতিক্রিয়া

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রকাশিত ফটোকার্ড এবং সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এনসিপি নেতা ও ছাত্রনেতারা ফেসবুকে যেসব পোস্ট দিয়েছেন তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়:

  • হাসনাত আব্দুল্লাহ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ শনিবার সন্ধ্যায় তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে মাত্র দুই শব্দের একটি স্ট্যাটাস দেন— “ইনকিলাব জিন্দাবাদ।” স্ট্যাটাসটি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাতে লাখ লাখ রিঅ্যাকশন ও হাজার হাজার কমেন্ট পড়ে।
  • নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী: এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রাত ৭টা ৪০ মিনিটে ফেসবুকে লেখেন— “ইনকিলাব জিন্দাবাদ! চাঁদাবাজ মুর্দাবাদ!” মন্ত্রীর মন্তব্যের পাশাপাশি সমসাময়িক চাঁদাবাজির অভিযোগকে ইঙ্গিত করে দেওয়া তার এই পোস্টটিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
  • আসিফ মাহমুদ: এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সরাসরি মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে লেখেন— “ইনকিলাব জিন্দাবাদ শুনলে ব্লিডিং হয়, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ শুনলে ব্লিডিং হয় না মাননীয় মন্ত্রী?” তিনি আরও একটি পোস্টে স্মরণ করিয়ে দিয়ে লেখেন, “ভুলে যাইয়েন না এইসব স্লোগান দিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটার ফলেই দীর্ঘ প্রবাস জীবন থেকে আজকে আপনারা মন্ত্রী হয়ে কথা বলতে পারছেন। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।”
  • অন্যান্য প্রতিক্রিয়া: এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় পিনাকী ভট্টাচার্যসহ আরও অনেকে বিষয়টি নিয়ে পোস্ট করেন। একজন তার পোস্টে লেখেন, “যে স্লোগান স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে, সেই স্লোগান তাদের উত্তরসূরিদের ভয়ের কারণ তো হবেই!”

প্রেক্ষাপট

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সময় ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ (বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক) স্লোগানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। আন্দোলনকারীদের মতে, এই স্লোগান স্বৈরাচার পতনের অন্যতম প্রেরণা ছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের একজন মন্ত্রীর মুখে এই স্লোগানের বিরোধিতা তাই নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি মূলত পূর্বতন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক দল (এনসিপি)-এর একটি আদর্শিক দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ।

Leave a Comment

Scroll to Top