বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সব সময়ই পরিবর্তনশীল। যারা নতুন গহনা বানাতে চাচ্ছেন বা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে সোনা কিনতে আগ্রহী, তাদের জন্য সঠিক ও আপডেটেড বাজার দর জানা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে, এপ্রিল মাসের এই সময়ে বিশ্ববাজারের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের বাজারেও সোনার দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
চলুন, ক্যারেট ও ওজন অনুযায়ী আজকের সোনার বাজার দরের বিস্তারিত তালিকা দেখে নেওয়া যাক।
📊 ক্যারেট ও ওজন অনুযায়ী স্বর্ণের বিস্তারিত মূল্য তালিকা
নিচে এক আনা থেকে শুরু করে এক ভরি (১৬ আনা) পর্যন্ত সোনার আপডেটেড দাম ধাপে ধাপে দেওয়া হলো। এই তথ্যগুলো সরাসরি বাজুস (BAJUS) কর্তৃক ভেরিফাইড।
২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম (সবচেয়ে উন্নত মানের)
২২ ক্যারেট হলো ২২ ভাগ সোনা ও ২ ভাগ খাদের মিশ্রণ, যা গহনা তৈরির জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ও জনপ্রিয়।
- ১ আনা: ১৫,৪৩৩ টাকা
- ৪ আনা: ৬১,৭৩২ টাকা
- ৬ আনা: ৯২,৫৯৮ টাকা
- ১২ আনা: ১,৮৫,১৯৫ টাকা
- ১ ভরি (১৬ আনা): ২,৪৬,৯২৭ টাকা
২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
- ১ আনা: ১৪,৭২৯ টাকা
- ৪ আনা: ৫৮,৯১৮ টাকা
- ৬ আনা: ৮৮,৩৭৭ টাকা
- ১২ আনা: ১,৭৬,৭৫৩ টাকা
- ১ ভরি (১৬ আনা): ২,৩৫,৬৭১ টাকা
১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
- ১ আনা: ১২,৬২৬ টাকা
- ৪ আনা: ৫০,৫০৫ টাকা
- ৬ আনা: ৭৫,৭৫৮ টাকা
- ১২ আনা: ১,৫১,৫১৫ টাকা
- ১ ভরি (১৬ আনা): ২,০২,০২০ টাকা
সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম (Traditional Gold)
পুরনো বা সনাতন পদ্ধতির সোনার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ক্যারেট মান থাকে না। এর বর্তমান বাজার দর নিম্নরূপ:
- ১ আনা: ১০,২৮৩ টাকা
- ৪ আনা: ৪১,১৩০ টাকা
- ৬ আনা: ৬১,৬৯৫ টাকা
- ১২ আনা: ১,২৩,৩৯১ টাকা
- ১ ভরি (১৬ আনা): ১,৬৪,৫২১ টাকা
📉 স্বর্ণের দাম কমার মূল কারণ কী?
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বেশ কয়েকবার সোনার দাম ওঠানামা করেছে। ২৩ এপ্রিল ২০২৬-এ বাজুসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দাম কমার পেছনে প্রধান কারণ হলো—
১. স্থানীয় বাজারে খাঁটি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম হ্রাস: দেশের বুলিয়ন মার্কেটে তেজাবি বা খাঁটি সোনার দাম কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে গহনার দামে।
২. আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব: বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার কারণেই দেশে এই সমন্বয় করা হয়েছে।
💡 স্বর্ণ কেনার আগে যে ৫টি বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন
গুগল হেল্পফুল কনটেন্ট গাইডলাইন অনুযায়ী, শুধু দাম জানাই যথেষ্ট নয়; একজন ক্রেতা হিসেবে আপনার বিনিয়োগ যেন সুরক্ষিত থাকে, সেজন্য নিচের বিষয়গুলো নিশ্চিত করুন:
- হলমার্ক যাচাই করুন: কেনার সময় অবশ্যই গহনায় বিএসটিআই (BSTI) অনুমোদিত হলমার্কের সিল আছে কি না, তা দেখে নিন। হলমার্ক ছাড়া সোনা কেনা ঝুঁকিপূর্ণ।
- ক্যারেট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখুন: গহনা সাধারণত ২২ ক্যারেটের হয়ে থাকে। আপনি যে দাম দিচ্ছেন, গহনাটি ঠিক সেই ক্যারেটের কি না তা নিশ্চিত হোন।
- মজুরি (Making Charge) ও ভ্যাট হিসাব করুন: উপরে উল্লেখিত দামের সাথে সাধারণত গহনার ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি এবং ৫% সরকারি ভ্যাট যুক্ত হয়। বাজেট করার সময় এই অতিরিক্ত খরচের কথা মাথায় রাখুন।
- পাকা মেমো বা ইনভয়েস গ্রহণ করুন: মেমোতে সোনার ওজন, ক্যারেট, মজুরি এবং ভ্যাট আলাদাভাবে লেখা আছে কি না তা চেক করুন। ভবিষ্যৎ বিক্রয় বা পরিবর্তনের জন্য এই মেমো অত্যাবশ্যক।
- বিশ্বস্ত জুয়েলারি শপ নির্বাচন করুন: প্রতারণা এড়াতে পরিচিত এবং বাজুস (BAJUS) নিবন্ধিত জুয়েলারি শপ থেকে কেনাকাটা করুন।
People Also Ask
আজকে বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কত?
আজকের আপডেট অনুযায়ী বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা।
১ ভরি সোনা সমান কত গ্রাম?
আন্তর্জাতিক ও দেশীয় পরিমাপ অনুযায়ী ১ ভরি স্বর্ণ সমান ১১.৬৬৪ গ্রাম।
স্বর্ণের সাথে রুপার দামও কি পরিবর্তিত হয়েছে?
হ্যাঁ, সোনার পাশাপাশি রুপার দামেও সমন্বয় করা হয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার দাম প্রতি ভরি ৫,৭১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পুরাতন স্বর্ণ বিক্রির নিয়ম কী?
আপনি যদি পুরোনো সোনা বিক্রি করতে চান, তবে জুয়েলার্সরা বর্তমান বাজার দরের (সংশ্লিষ্ট ক্যারেট অনুযায়ী) ওপর সাধারণত ২০% বাদ দিয়ে বাকি টাকা পরিশোধ করে থাকে। তবে মেমো থাকলে অনেক ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়া যায়।
২০২৬ সালে স্বর্ণের বাজার কেমন হতে পারে?
আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ২০২৬ সালে সোনার দাম বেশ অস্থিতিশীল। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি অনুযায়ী দাম আরও ওঠানামা করতে পারে।
অতিরিক্ত তথ্যের জন্য আপনি সরাসরি বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা তাদের সর্বশেষ প্রেস রিলিজ দেখতে পারেন।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (BAJUS)
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”

