নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬: রেজিস্ট্রেশন, বয়স, ইভেন্ট এবং বিস্তারিত গাইডলাইন

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬ রেজিস্ট্রেশন, বয়স, ইভেন্ট এবং বিস্তারিত গাইডলাইন

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ হলো বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত একটি দেশব্যাপী ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি । ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে তৃণমূল (উপজেলা/ইউনিয়ন) থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত ৮টি স্পোর্টস ইভেন্টে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে । এই প্রতিযোগিতায় সেরাদের জন্য রয়েছে বিকেএসপি-তে (BKSP) ভর্তির সুযোগ, দীর্ঘমেয়াদী আবাসিক প্রশিক্ষণ এবং সরকারি ক্রীড়া বৃত্তি

বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য কিশোর-কিশোরীর ক্রীড়া প্রতিভাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এক সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ হলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ । আশির দশকের জনপ্রিয় ‘নতুন কুঁড়ি’ অনুষ্ঠানের আদলে, তবে এবার সম্পূর্ণ স্পোর্টস বা খেলাধুলা ভিত্তিক এই মেগা আয়োজনটি শুরু হতে যাচ্ছে

আপনি যদি একজন অভিভাবক, শিক্ষক কিংবা ১২-১৪ বছর বয়সী ক্রীড়াপ্রেমী কিশোর-কিশোরী হয়ে থাকেন, তবে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। চলুন জেনে নিই এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের নিয়ম, যোগ্যতা এবং বিস্তারিত সব তথ্য।

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আসলে কী এবং কেন?

বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের অতিরিক্ত ডিজিটাল নির্ভরতা ও মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই । ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর মূল উদ্দেশ্য হলো তৃণমূল পর্যায় থেকে মেধা অন্বেষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি করা

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে এবং ক্রীড়া পরিদপ্তরের বাস্তবায়নে এই টুর্নামেন্ট পরিচালিত হবে । এর মাধ্যমে ক্রীড়াকে একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে

কারা অংশগ্রহণ করতে পারবে? (যোগ্যতা ও নিয়মাবলি)

এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড রয়েছে:

  • বয়সসীমা: উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা শুরুর নির্ধারিত তারিখে অংশগ্রহণকারীর বয়স অবশ্যই ১২ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে হতে হবে ।
  • অংশগ্রহণের সীমা: একজন খেলোয়াড় ৮টি ইভেন্টের মধ্যে সর্বোচ্চ ২ (দুই) টি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতে পারবে ।
  • বিকেএসপি শর্ত: বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) বর্তমানে অধ্যয়নরত কোনো খেলোয়াড় এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না ।

রেজিস্ট্রেশনের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে?

বয়স এবং পরিচয় প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট কিছু কাগজপত্র টুর্নামেন্ট কমিটির কাছে জমা দিতে হবে। খেয়াল রাখবেন, সকল কাগজপত্র এবং ছবি অবশ্যই প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত হতে হবে

১. জন্মনিবন্ধন: সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন সনদ । ২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়ন: সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক বয়স সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র । ৩. অভিভাবকের তথ্য: পিতা/মাতার (বা অভিভাবকের) ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) কপি । ৪. সম্মতিপত্র: প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য অভিভাবকের সম্মতিপত্র । ৫. ছবি: আবেদনকারীর সাম্প্রতিক সময়ের তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি

(সতর্কতা: বয়স বা কাগজপত্রে কোনো জালিয়াতি বা প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেলে অংশগ্রহণ তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।)

কোন কোন খেলায় (ইভেন্ট) অংশ নেওয়া যাবে?

বালক এবং বালিকাদের জন্য পৃথকভাবে মোট ৮টি স্পোর্টস ইভেন্টে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে । ইভেন্টগুলো হলো:

  • ফুটবল (দলীয়): প্রতি দলে ১৮ জন খেলোয়াড় ।
  • টি-টেন ক্রিকেট (দলীয়): ১০ ওভারের ম্যাচ, প্রতি দলে ১৪ জন খেলোয়াড় ।
  • কাবাডি (দলীয়): প্রতি দলে ১২ জন খেলোয়াড় ।
  • অ্যাথলেটিক্স (একক): ১০০ মিটার দৌড়, ২০০ মিটার দৌড় এবং দীর্ঘ লাফ ।
  • ব্যাডমিন্টন: একক এবং দ্বৈত ইভেন্ট ।
  • দাবা (একক): সুইস লিগ পদ্ধতিতে খেলা হবে ।
  • সাঁতার (একক- ৫০ মিটার): মুক্ত সাঁতার, বুক সাঁতার, চিৎ সাঁতার এবং প্রজাপতি সাঁতার ।
  • মার্শাল আর্ট: এর অধীনে কারাতে, উশু (সান্দা), তাইকোয়ানডো এবং জুডো (মাইনাস ৪৫ কেজি এবং প্লাস ৪৫ কেজি ওজন শ্রেণি) ।

প্রতিযোগিতার ৪টি ধাপ বা পর্যায়

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস তৃণমূল থেকে শুরু হয়ে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত মোট ৪টি স্তরে অনুষ্ঠিত হবে

১. উপজেলা/শিক্ষা থানা পর্যায়: ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড পর্যায়ের দলগুলো এখানে অংশ নেবে । ২. জেলা পর্যায়: উপজেলা ও শিক্ষা থানা পর্যায় থেকে বাছাইকৃত সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে জেলা পর্যায়ে খেলা হবে । ৩. আঞ্চলিক পর্যায়: সমগ্র বাংলাদেশকে ১০টি ক্রীড়া অঞ্চলে (ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ) ভাগ করে এই প্রতিযোগিতা হবে । জেলা দলের সেরারা এখানে লড়বে । ৪. জাতীয় পর্যায়: ১০টি অঞ্চলের সেরা দলগুলো নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে চূড়ান্ত চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করা হবে

অংশগ্রহণকারীদের জন্য কী কী সুযোগ-সুবিধা ও পুরস্কার থাকছে?

সরকার এই আয়োজনের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার গঠনে বেশ কিছু সুবিধা দিচ্ছে:

  • ভাতা ও পোশাক: অংশগ্রহণকারীদের নির্ধারিত হারে ভাতা এবং জেলা পর্যায় থেকে স্ব-স্ব ইভেন্টের জন্য মানসম্মত খেলোয়াড়ী পোশাক প্রদান করা হবে ।
  • সনদপত্র ও মেডেল: প্রতিটি পর্যায়ে বিজয়ীদের ট্রফি, মেডেল ও স্বীকৃতি সনদ দেওয়া হবে ।
  • উন্নত প্রশিক্ষণ ও বিকেএসপি: জাতীয় পর্যায়ের সেরা খেলোয়াড়দের জন্য দীর্ঘমেয়াদী আবাসিক ক্যাম্প এবং বিকেএসপি-তে (BKSP) ভর্তির সুযোগ তৈরি হবে ।

সাধারণ জিজ্ঞাস্য

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-এ অংশগ্রহণের বয়সসীমা কত?

উপজেলা পর্যায়ে খেলা শুরুর দিন অনুযায়ী প্রতিযোগীর বয়স অবশ্যই ১২ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে হতে হবে । ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন দিয়ে বয়স যাচাই করা হবে ।

আমি কি একাধিক খেলায় অংশ নিতে পারব?

হ্যাঁ, একজন প্রতিযোগী ৮টি ইভেন্টের মধ্যে সর্বোচ্চ ২টি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতে পারবে ।

বিকেএসপি-র ছাত্র-ছাত্রীরা কি এতে অংশ নিতে পারবে?

না, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) অধ্যয়নরত কোনো খেলোয়াড় এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে না । এটি মূলত তৃণমূলের নতুন প্রতিভা খোঁজার জন্য।

ফুটবল এবং ক্রিকেট খেলার সময়সীমা বা নিয়ম কী?

ফুটবল ম্যাচ ৬০ মিনিটের (৩০+১০+৩০) হবে । আর ক্রিকেট হবে টি-টেন (১০ ওভারের) ম্যাচ, যেখানে একজন বোলার সর্বোচ্চ ২ ওভার বল করতে পারবে ।

খেলায় কোনো দুর্নীতি বা বয়স চুরি হলে কী হবে?

বয়স সংক্রান্ত জালিয়াতি বা পাতানো খেলার প্রমাণ পেলে খেলোয়াড় বা দলকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার এবং পরবর্তী ২ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হবে ।

আশা করি, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ সম্পর্কিত সকল তথ্য আপনি এই গাইডলাইন থেকে পেয়েছেন। আপনার এলাকার শিশু-কিশোরদের এই সরকারি ক্রীড়া প্রণোদনায় অংশ নিতে উৎসাহিত করুন।

Leave a Comment

Scroll to Top