| NASA Artemis II রকেট লঞ্চের তারিখ কবে? NASA-এর Artemis II মিশনের রকেট (SLS) ইতোমধ্যে ২০ মার্চ ২০২৬ তারিখে Launch Pad 39B-তে পৌঁছেছে। লঞ্চের সম্ভাব্য তারিখ ১ এপ্রিল ২০২৬ (No Earlier Than – NET)। এটি ৫০ বছরের মধ্যে প্রথম মানববাহী চাঁদ অভিযান। |
কেন এই মিশন এত গুরুত্বপূর্ণ?
১৯৭২ সালে Apollo 17-এর পর এই প্রথম মানুষ চাঁদের কাছে যাচ্ছে। NASA-এর Artemis II মিশন শুধু একটি মহাকাশ অভিযান নয় এটি মানবজাতির ভবিষ্যৎ মহাকাশ অন্বেষণের ভিত্তিপ্রস্তর। এই মিশনে প্রথমবারের মতো একজন নারী, একজন কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ এবং একজন কানাডিয়ান নভোচারী পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে মহাকাশে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ ও বিশ্বজুড়ে মহাকাশ প্রেমীরা এই মিশনের দিকে তাকিয়ে আছেন। এই আর্টিকেলে NASA Artemis II রকেট লঞ্চ ২০২৬ সম্পর্কে সর্বশেষ ও সম্পূর্ণ তথ্য পাবেন লঞ্চের তারিখ থেকে শুরু করে মিশনের বিস্তারিত পরিকল্পনা পর্যন্ত।
Artemis II মিশন: এক নজরে
| মিশনের নাম | Artemis II (আর্টেমিস ২) |
| লঞ্চের তারিখ | ১ এপ্রিল ২০২৬ (No Earlier Than) |
| লঞ্চ স্থান | Kennedy Space Center, Launch Complex 39B, Florida, USA |
| রকেট | SLS (Space Launch System) — Block 1 variant |
| মহাকাশযান | Orion Spacecraft (নাম: ‘Integrity’) |
| মিশনের মেয়াদ | প্রায় ১০ দিন |
| নভোচারীর সংখ্যা | ৪ জন |
| মিশনের ধরন | চাঁদকে ঘিরে Lunar Flyby (Free-Return Trajectory) |
| সর্বোচ্চ দূরত্ব | চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০,৪০০ কিমি দূরে |
| মোট ভ্রমণ দূরত্ব | ২০ লক্ষ কিলোমিটারেরও বেশি |
| স্প্ল্যাশডাউন | প্রশান্ত মহাসাগর, San Diego উপকূল |
Artemis II-এর নভোচারীরা
এই মিশনের চার নভোচারী শুধু মহাকাশে যাচ্ছেন না, তারা ইতিহাস রচনা করছেন। প্রতিটি নভোচারীই তাঁর নিজস্ব কারণে এই মিশনকে ঐতিহাসিক করে তুলছেন।
১. Reid Wiseman — কমান্ডার
মার্কিন নৌবাহিনীর অভিজ্ঞ পাইলট ও NASA নভোচারী। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) অভিযান করেছেন। এটি তার দ্বিতীয় মহাকাশ যাত্রা।
২. Victor Glover — পাইলট (প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ চাঁদের দিকে)
Victor Glover হবেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি যিনি পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে চাঁদের দিকে যাবেন। এটি মানবজাতির ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব মাইলফলক।
৩. Christina Koch — মিশন স্পেশালিস্ট (প্রথম নারী চাঁদের দিকে)
Christina Koch হবেন প্রথম নারী যিনি পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে মহাকাশে যাবেন। তিনি ইতোমধ্যে মহাকাশে দীর্ঘতম সময় অতিবাহনকারী নারী হিসেবে রেকর্ড করেছেন।
৪. Jeremy Hansen — মিশন স্পেশালিস্ট (প্রথম কানাডিয়ান চাঁদের দিকে)
Canadian Space Agency (CSA)-এর নভোচারী Jeremy Hansen হবেন প্রথম কানাডিয়ান এবং প্রথম অ-মার্কিন নাগরিক যিনি পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে চাঁদের কাছে যাবেন। এটি তার প্রথম মহাকাশ যাত্রা।
SLS রকেট ও Orion মহাকাশযান
SLS (Space Launch System) কী?
SLS হলো NASA-এর সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট, যা এখন পর্যন্ত মানুষের তৈরি অন্যতম শক্তিশালী রকেট। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- উচ্চতা: ৩২২ ফুট (৯৮ মিটার) — প্রায় ৩০ তলা ভবনের সমান
- থ্রাস্ট: ৩৯ মিলিয়ন নিউটন (৮.৮ মিলিয়ন পাউন্ড) — Saturn V-এর চেয়ে ১৫% বেশি
- ওজন (পূর্ণ জ্বালানিসহ): ২৬ লক্ষ কেজি
- ইঞ্জিন: ৪টি RS-25 ইঞ্জিন + ২টি Solid Rocket Booster (SRB)
- জ্বালানি: তরল হাইড্রোজেন ও তরল অক্সিজেন
Orion মহাকাশযান কী?
Orion হলো NASA-এর নতুন প্রজন্মের মানববাহী মহাকাশযান, যার নাম রাখা হয়েছে ‘Integrity’ (সততা)। এটিতে ৩০০,০০০-এরও বেশি পৃথক যন্ত্রাংশ একত্রিত করা হয়েছে।
- Crew Module: নভোচারীদের বসার ক্যাপসুল (কোন শহর)
- Service Module: ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA) নির্মিত
- Life Support System (ECLSS): শ্বাসযোগ্য বায়ু, পানীয় জল ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
- প্রথমবার সম্পূর্ণ life support সহ উড়বে (Artemis I-এ ছিল না)
রকেট এখন লঞ্চ প্যাডে (মার্চ ২০২৬)
২০ মার্চ ২০২৬ তারিখে NASA-এর Artemis II SLS রকেট ও Orion মহাকাশযান Launch Pad 39B-তে পৌঁছেছে। এটি একটি বড় মাইলফলক।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ:
- ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬: প্রথম Wet Dress Rehearsal — তরল হাইড্রোজেন লিক ধরা পড়ে।
- ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬: দ্বিতীয় Wet Dress Rehearsal — সফল।
- ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬: Helium প্রবাহ সমস্যা শনাক্ত হয়, রকেট আবার VAB-তে ফেরত আনা হয়।
- ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬: রকেট Vehicle Assembly Building (VAB)-এ ফিরে আসে।
- মার্চ ১২, ২০২৬: Flight Readiness Review সম্পন্ন — ‘GO’ ঘোষণা।
- মার্চ ১৮, ২০২৬: নভোচারীরা কোয়ারেন্টাইনে প্রবেশ করেন।
- মার্চ ২০, ২০২৬: রকেট Launch Pad 39B-তে পৌঁছায় — ১১ ঘণ্টার যাত্রায়, ঘণ্টায় মাত্র ১.৩ কিমি গতিতে।
- এপ্রিল ১, ২০২৬: প্রথম লঞ্চ সুযোগ (No Earlier Than)।
মিশনের পরিকল্পনা: ১০ দিনের যাত্রা কেমন হবে?
দিন ১ — পৃথিবীর কক্ষপথে পরীক্ষা-নিরীক্ষা
লঞ্চের মাত্র ৮ মিনিটের মধ্যে রকেট মহাকাশে পৌঁছাবে। এরপর Orion পৃথিবীর চারপাশে উচ্চ উপবৃত্তাকার কক্ষপথে (apogee: ৭১,৬৫৬ কিমি) প্রবেশ করবে। নভোচারীরা ২৩ ঘণ্টা ধরে মহাকাশযানের সকল সিস্টেম পরীক্ষা করবেন এবং ম্যানুয়াল পাইলটিং করবেন।
দিন ২ — চাঁদের পথে যাত্রা শুরু
Translunar Injection (TLI) বার্ন — Orion-এর মূল ইঞ্জিন প্রজ্বলন করে মহাকাশযানকে চাঁদের পথে পাঠানো হবে। এটিই মিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এরপর আর ফেরার পথ নেই। তবে Free-Return Trajectory নিশ্চিত করে যে ইঞ্জিন বন্ধ হলেও মহাকাশযান পৃথিবীতে ফিরে আসবে।
দিন ৩-৫ — চাঁদের দিকে এগিয়ে যাওয়া
Orion চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ ক্ষেত্রে প্রবেশ করবে। নভোচারীরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করবেন এবং Deep Space Network-এর সাথে যোগাযোগ পরীক্ষা করবেন।
দিন ৬-৭ — চাঁদের সবচেয়ে কাছে
Orion চাঁদের দূর প্রান্তের (Far Side) ১০,৪০০ কিমি দূর দিয়ে উড়ে যাবে। এটি অ্যাপোলো ১৩-এর রেকর্ড ভেঙে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে যাওয়া মানববাহী মিশন হবে। নভোচারীরা চাঁদের অপর পৃষ্ঠ খালি চোখে দেখবেন—এটি বহু মানুষ এর আগে দেখেননি।
দিন ৮-১০ — পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন
Free-Return Trajectory-র কারণে চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ Orion-কে পৃথিবীর দিকে ফিরিয়ে দেবে। পুনঃপ্রবেশের সময় গতি হবে ঘণ্টায় প্রায় ৪০,০০০ কিমি এবং তাপমাত্রা পৌঁছাবে ১,৬৫০° সেলসিয়াস পর্যন্ত। অবশেষে প্যারাশুটের সাহায্যে গতি কমিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে স্প্ল্যাশডাউন।
এই মিশন কেন এত বিশেষ? রেকর্ড ও মাইলফলক
- ১৯৭২ সালের পর প্রথম মানববাহী চাঁদ অভিযান (Apollo 17-এর পর)
- প্রথমবারের মতো একজন নারী পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে যাবেন
- প্রথমবারের মতো একজন কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ চাঁদের দিকে যাবেন
- প্রথমবারের মতো একজন কানাডিয়ান পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে যাবেন
- মানবজাতির ইতিহাসে সবচেয়ে দূরে যাওয়া মানববাহী মিশন
- মানবজাতির ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত পুনঃপ্রবেশ গতি (৪০,০০০ কিমি/ঘণ্টা)
- Artemis III (২০২৭-২০২৮) ও পরবর্তী চাঁদে অবতরণের প্রস্তুতি
Artemis প্রোগ্রাম কী? চাঁদ থেকে মঙ্গলের পথে
NASA-এর Artemis প্রোগ্রাম হলো চাঁদে দীর্ঘমেয়াদী মানব উপস্থিতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা। এটি শুধু চাঁদে যাওয়া নয় এটি মঙ্গলগ্রহে মানুষ পাঠানোর ভিত্তি তৈরি করছে।
Artemis মিশনের রোডম্যাপ:
- Artemis I (নভেম্বর ২০২২): মানুষ ছাড়া প্রথম পরীক্ষামূলক উড়ান — সফল।
- Artemis II (এপ্রিল ২০২৬): প্রথম মানববাহী চাঁদ অভিযান — চলমান।
- Artemis III (২০২৭-২০২৮): প্রথমবার চাঁদে অবতরণ (নারী ও কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী)।
- Artemis IV ও পরবর্তী: Lunar Gateway স্টেশন নির্মাণ ও দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি।
- ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: চাঁদকে ‘লঞ্চপ্যাড’ হিসেবে ব্যবহার করে মঙ্গলে মানুষ পাঠানো।
কেন বারবার তারিখ পরিবর্তন হলো?
Artemis II মিশন বেশ কয়েকবার পিছিয়েছে। তবে NASA-এর এই সতর্কতা মহাকাশ অভিযানের অপরিহার্য অংশ। নিরাপত্তা সবসময় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
বিলম্বের কারণসমূহ:
- Orion মহাকাশযানের life support system-এ সমস্যা
- Artemis I-এ Heat Shield-এ অস্বাভাবিক ক্ষয় (spalling) পাওয়া — তদন্ত ও সংশোধন
- Wet Dress Rehearsal-এ তরল হাইড্রোজেন লিক
- Helium প্রবাহ সমস্যা
- Flight Termination System-এ বৈদ্যুতিক হার্নেস সমস্যা
- শীতকালীন ঝড়ের কারণে প্রস্তুতিতে বিলম্ব
NASA-প্রধান Jared Isaacman জানিয়েছেন, প্রতিটি সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত লঞ্চ হবে না। নভোচারীদের নিরাপত্তাই সবার আগে।
Heat Shield সমস্যা: Orion কি নিরাপদ?
Artemis I মিশনের পর Orion-এর heat shield-এ অস্বাভাবিক ক্ষয় দেখা গিয়েছিল। NASA বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেয় যে নতুন heat shield লাগানোর দরকার নেই।
পরিবর্তে পুনঃপ্রবেশের কোণ পরিবর্তন করা হয়েছে। এর ফলে মহাকাশযান বায়ুমণ্ডলে আরো খাড়াভাবে প্রবেশ করবে, যা তাপমাত্রার প্রভাব কমাবে। NASA এবং প্রশাসক Isaacman উভয়ই এই সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করেছেন। অতিরিক্ত পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে মহাকাশযান ও নভোচারীরা সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: NASA Artemis II কবে লঞ্চ হবে?
উত্তর: Artemis II মিশনের লঞ্চ সম্ভাব্য তারিখ ১ এপ্রিল ২০২৬ (No Earlier Than)। রকেট ইতোমধ্যে ২০ মার্চ ২০২৬-এ Launch Pad 39B-তে পৌঁছেছে। চূড়ান্ত লঞ্চ তারিখ নিশ্চিত হবে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরে।
প্রশ্ন ২: Artemis II-এ কতজন নভোচারী থাকবেন?
উত্তর: চারজন — Reid Wiseman (Commander), Victor Glover (Pilot), Christina Koch এবং Jeremy Hansen (Mission Specialists)।
প্রশ্ন ৩: Artemis II কি চাঁদে অবতরণ করবে?
উত্তর: না। Artemis II শুধুমাত্র চাঁদের চারপাশ দিয়ে উড়ে যাবে (Lunar Flyby)। চাঁদে অবতরণ করবে Artemis III মিশন, যা ২০২৭-২০২৮ সালে পরিকল্পিত।
প্রশ্ন ৪: NASA Artemis কী?
উত্তর: NASA-এর Artemis প্রোগ্রাম হলো চাঁদে মানুষ ফিরিয়ে নেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদী চাঁদ-ভিত্তিক অন্বেষণের কর্মসূচি, যা পরবর্তীতে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর পথ তৈরি করবে।
প্রশ্ন ৫: SLS রকেট কতটা শক্তিশালী?
উত্তর: SLS রকেটের থ্রাস্ট ৩৯ মিলিয়ন নিউটন বা ৮.৮ মিলিয়ন পাউন্ড। এটি Apollo যুগের Saturn V রকেটের চেয়ে ১৫% বেশি শক্তিশালী এবং এখন পর্যন্ত কার্যকর সবচেয়ে শক্তিশালী রকেটগুলোর একটি।
প্রশ্ন ৬: Artemis II মিশনে কতদিন লাগবে?
উত্তর: প্রায় ১০ দিন। লঞ্চ থেকে প্রশান্ত মহাসাগরে স্প্ল্যাশডাউন পর্যন্ত মোট প্রায় ১০ দিনের যাত্রা।
প্রশ্ন ৭: কোথায় Artemis II লঞ্চ দেখা যাবে?
উত্তর: NASA-এর অফিশিয়াল YouTube চ্যানেল (youtube.com/NASA) ও NASA.gov/live-এ বিনামূল্যে লাইভ স্ট্রিম দেখা যাবে। Kennedy Space Center থেকেও সরাসরি দেখার ব্যবস্থা আছে।
প্রশ্ন ৮: Artemis I ও Artemis II-এর মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: Artemis I (২০২২) ছিল মানুষ ছাড়া পরীক্ষামূলক উড়ান। Artemis II (২০২৬) হলো প্রথম মানববাহী উড়ান। Artemis I-এ Life Support System ছিল না, Artemis II-এ পূর্ণাঙ্গ Life Support System আছে।
প্রশ্ন ৯: Artemis III কবে হবে?
উত্তর: Artemis III মিশন ২০২৭-২০২৮ সালে পরিকল্পিত। এই মিশনে প্রথমবারের মতো একজন নারী ও একজন কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী চাঁদে অবতরণ করবেন।
প্রশ্ন ১০: বাংলাদেশ থেকে কি Artemis II দেখা যাবে?
উত্তর: সরাসরি লঞ্চ দেখার সুযোগ না থাকলেও, NASA-এর YouTube লাইভ স্ট্রিম বাংলাদেশ থেকে যেকোনো ডিভাইসে বিনামূল্যে দেখা যাবে। লঞ্চের সময় হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা বা রাতের দিকে (এপ্রিল ১, ২০২৬)।
বিশ্বের জন্য এই মিশনের তাৎপর্য
Artemis II শুধু NASA-এর অর্জন নয়—এটি সমগ্র মানবজাতির সাফল্য। এই মিশনে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA) Service Module তৈরি করেছে, কানাডার CSA একজন নভোচারী দিয়েছে। ভবিষ্যতে জাপান (JAXA) ও অন্যান্য দেশও Artemis প্রোগ্রামে যুক্ত হবে।
বাংলাদেশ সরাসরি এই মিশনে অংশ না নিলেও, এই ধরনের মিশন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণায় অনুপ্রাণিত করে। বাংলাদেশেও মহাকাশ গবেষণার আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে এবং Bangabandhu Satellite-1-এর সফলতার পর দেশে মহাকাশ খাতে বিনিয়োগ ও আগ্রহ আরো বেড়েছে।
শেষকথা
NASA Artemis II মিশন ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর মানুষ আবার চাঁদের পথে। এই মিশনের সাফল্য কেবল চাঁদে ফেরা নয় এটি মঙ্গলগ্রহে মানুষ পাঠানোর প্রথম পদক্ষেপ।
২০ মার্চ ২০২৬-এ রকেট লঞ্চ প্যাডে পৌঁছে গেছে। নভোচারীরা কোয়ারেন্টাইনে। গোটা পৃথিবী এখন অপেক্ষায়। ১ এপ্রিল ২০২৬-এ যদি সব ঠিক থাকে, তাহলে মানবজাতি আবার নতুন ইতিহাস রচনা করবে।
এটি শুধু একটি রকেট লঞ্চ নয়। এটি স্বপ্নের উড়ান।
তথ্যসূত্র ও আরো পড়ুন
- NASA অফিশিয়াল ওয়েবসাইট: nasa.gov/mission/artemis-ii
- Wikipedia: Artemis II (en.wikipedia.org/wiki/Artemis_II)
- European Space Agency (ESA): esa.int/Artemis_II
- Canadian Space Agency (CSA): asc-csa.gc.ca/artemis-ii
- Britannica: britannica.com/topic/Artemis-II
- Smithsonian Air and Space Museum: airandspace.si.edu/artemis-ii
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”

