লিস্টেরিয়া (Listeria) হলো এক ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া যা দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে ‘লিস্টারিওসিস’ (Listeriosis) নামক মারাত্মক ফুড পয়জনিং বা সংক্রমণের সৃষ্টি করে। কাঁচা বা অপাস্তুরিত দুধ, প্রক্রিয়াজাত মাংস, ঠিকমতো না ধোয়া কাঁচা শাকসবজি এবং ফ্রিজে রাখা বাসি খাবারে এটি বেশি থাকে। তবে সঠিক তাপমাত্রায় (অন্তত ৭৪°C বা ১৬৫°F) খাবার ভালোভাবে রান্না করলে এই ব্যাকটেরিয়া সম্পূর্ণ মারা যায়।
লিস্টারিওসিস রোগের কারণ কি?
লিস্টারিওসিস (Listeriosis) রোগের প্রধান কারণ হলো Listeria monocytogenes (লিস্টেরিয়া মনোসাইটোজিনস) নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। যখন কেউ এই ব্যাকটেরিয়া যুক্ত দূষিত খাবার গ্রহণ করেন, তখন ব্যাকটেরিয়াটি পাকস্থলী হয়ে অন্ত্রে প্রবেশ করে এবং রক্তে ছড়িয়ে পড়ে।
এই ব্যাকটেরিয়ার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি সাধারণ ফ্রিজের তাপমাত্রায় (৪°C বা তার নিচে) মারা যায় না, বরং সেখানেও ধীরে ধীরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে। তাই ফ্রিজে দীর্ঘদিন রাখা খাবারে এই ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
লিস্টেরিয়া কোন খাবারে থাকে? (What foods contain Listeria?)
লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়া মাটি, পানি এবং প্রাণীর মলে প্রাকৃতিকভাবেই থাকে। তাই বিভিন্ন ধরনের খাবারে এটি সংক্রমিত হতে পারে। বাংলাদেশে আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের প্রেক্ষিতে নিচের খাবারগুলোতে লিস্টেরিয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি:
- কাঁচা ও অপাস্তুরিত দুধ: সরাসরি খামার থেকে আনা কাঁচা দুধ না ফুটিয়ে খেলে বা কাঁচা দুধের তৈরি ছানা, পনির বা মিষ্টি থেকে।
- কাঁচা শাকসবজি ও ফলমূল: খেত থেকে তোলার পর ঠিকমতো না ধোয়া কাঁচা সালাদ (যেমন: শসা, টমেটো, গাজর) এবং রাস্তার পাশের কাটা ফল।
- প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত মাংস: হট ডগ, সসেজ, নাগেটস এবং ডেলি মিট (যদি ভালোভাবে গরম না করে খাওয়া হয়)।
- সামুদ্রিক মাছ ও শুঁটকি: সঠিকভাবে প্রসেস বা রান্না না করা মাছ।
- ফ্রিজে রাখা বাসি খাবার: ফ্রিজে কয়েকদিন ধরে রাখা খাবার যা বের করে ঠিকমতো গরম না করেই খাওয়া হয়।
শরীরে লিস্টেরিয়া প্রবেশ করলে কী হয়? (What happens when you get Listeria?)
লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করার পর সাধারণ মানুষ এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয়।
প্রাথমিক লক্ষণসমূহ:
- জ্বর এবং শীত শীত ভাব।
- পেশিতে ব্যথা ও প্রচণ্ড ক্লান্তি।
- বমি ভাব এবং ডায়রিয়া (ফুড পয়জনিং এর মতো)।
উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কাদের জন্য?
১. গর্ভবতী নারী: গর্ভাবস্থায় এই সংক্রমণ হলে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এর ফলে গর্ভপাত (Miscarriage), মৃত সন্তান প্রসব বা নবজাতকের মারাত্মক সংক্রমণ হতে পারে।
২. বয়স্ক মানুষ (৬৫+ বছর): যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল।
৩. ইমিউনো-কমপ্রোমাইজড ব্যক্তি: যারা ক্যানসার, ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগে ভুগছেন। এদের ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়াটি মস্তিষ্কে ছড়িয়ে মেনিনজাইটিস সৃষ্টি করতে পারে।
রান্না করলে কি লিস্টেরিয়া মারা যায়? (Is Listeria killed by cooking?)
হ্যাঁ, সঠিক তাপমাত্রায় রান্না করলে লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়া মারা যায়।
- সঠিক তাপমাত্রা: যেকোনো কাঁচা মাংস, মাছ বা তরকারি রান্নার সময় এর ভেতরের তাপমাত্রা অন্তত ৭৪°C (১৬৫°F) এ পৌঁছালে লিস্টেরিয়া ধ্বংস হয়ে যায়।
- দুধ ফোটানো: দুধ সবসময় ভালোভাবে ফুটিয়ে পান করতে হবে। পাস্তুরিত দুধে সাধারণত লিস্টেরিয়া থাকে না।
- ফ্রিজের খাবার পুনরায় গরম করা: ফ্রিজ থেকে খাবার বের করার পর তা চুলায় বা মাইক্রোওভেনে এমনভাবে গরম করতে হবে যেন তা থেকে ধোঁয়া ওঠে (Steaming hot)। শুধুমাত্র হালকা গরম করলে এই ব্যাকটেরিয়া মরে না।
- সতর্কতা: মনে রাখবেন, খাবার ফ্রিজে বা ডিপ ফ্রিজে রাখলে এই ব্যাকটেরিয়া মরে না, শুধু এদের বৃদ্ধি ধীর হয়ে যায় বা সাময়িক বন্ধ থাকে।
People Also Ask
১. What happens when you get Listeria?
লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হলে জ্বর, পেশি ব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া হতে পারে। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এটি গর্ভপাতের মতো মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
২. What foods contain Listeria?
কাঁচা বা অপাস্তুরিত দুধ, ঠিকমতো না ধোয়া সালাদ ও ফলমূল, সসেজ বা হট ডগের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং ফ্রিজে রাখা বাসি খাবারে লিস্টেরিয়া বেশি পাওয়া যায়।
৩. Is Listeria killed by cooking?
Yes. খাবার ভালোভাবে সেদ্ধ করলে বা অন্তত ৭৪°C (১৬৫°F) তাপমাত্রায় রান্না করলে লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়া সম্পূর্ণ মারা যায়।
৪. লিস্টেরিয়া সংক্রমণ থেকে বাঁচার উপায় কী?
খাবার রান্নার আগে এবং পরে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া, কাঁচা সবজি ও ফলমূল পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নেওয়া, কাঁচা মাংস ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা এবং খাবার সবসময় ভালোভাবে সেদ্ধ করে খাওয়া।
ডিসক্লেইমার: এই লেখাটি শুধুমাত্র জনসচেতনা বৃদ্ধির জন্য প্রকাশ করা। এটা কোন ডাক্তারি উপদেশ নয়।
তথ্যসূত্র (Credible Sources): বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি (CDC), এবং বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ (BFSA)।
I’m Md Parvez Hossen. I’m professional Blogger and SEO expert. I’m Living in USA.