জার্মান বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার ও আর্সেনালের প্রাক্তন তারকা মেসুত ওজিল (Mesut Ozil) ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে একটি বিশেষ মানবিক সফরে বাংলাদেশে আসেন। তুরস্কের দাতা সংস্থা ‘টিকা’ (TIKA)-এর আমন্ত্রণে এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট-পুত্র বিলাল এরদোগানের সাথে তিনি mesut ozil bangladesh সফরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আধুনিক মেডিকেল সেন্টারের উদ্বোধন করেন। এছাড়া, তিনি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন, শিশুদের সাথে ফুটবল খেলেন এবং রমজানের প্রথম দিনে তাদের সাথে ইফতারে অংশ নেন। কক্সবাজারে ফেরার পথে তার কনভয় একটি ছোট সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়লেও তিনি সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদ ছিলেন।
মেসুত ওজিল বাংলাদেশ সফরে কেন এসেছিলেন?
অনেক বাংলাদেশি ফুটবল ভক্তই জানতে চান, বিশ্বখ্যাত এই মিডফিল্ডার হঠাৎ কেন বাংলাদেশে এলেন। মেসুত ওজিলের এই সফরের পেছনে মূল কারণগুলো ছিল মূলত মানবিক ও উন্নয়নমূলক:
- মানবিক সহায়তা: রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি সংহতি জানানো এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করা।
- তুরস্কের উন্নয়ন প্রকল্প (TIKA): টার্কিশ কোঅপারেশন অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন এজেন্সি (TIKA)-এর বিভিন্ন সামাজিক ও স্বাস্থ্যসেবা মূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করা।
- রমজানের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া: পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে সুবিধাবঞ্চিত রোহিঙ্গা শিশুদের সাথে সময় কাটানো ও তাদের সাথে ইফতার করা।
মেসুত ওজিলের বাংলাদেশ সফরের দিনলিপি
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (DU) পরিদর্শন
মেসুত ওজিল এবং বিলাল এরদোগানের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল প্রথম দিনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (DU) ক্যাম্পাসে আসেন।
- মেডিকেল সেন্টারের উদ্বোধন: তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টার’-এর আধুনিকায়ন ও নতুন চিকিৎসা সরঞ্জামের উদ্বোধন করেন।
- উচ্ছ্বসিত ছাত্র-ছাত্রী: বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবলারকে খুব কাছ থেকে দেখতে পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্যস্ত দিন
সফরের দ্বিতীয় দিনে মেসুত ওজিল কক্সবাজারের উখিয়ায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে (ক্যাম্প ৪) যান।
- ফুটবল ম্যাচ: তিনি রোহিঙ্গা শিশু-কিশোরদের সাথে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশ নেন, যা পুরো ক্যাম্প জুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি করে।
- শিক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন: TIKA পরিচালিত বহুমুখী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও রোবোটিক্স ল্যাব পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহার বিতরণ করেন।
- ইফতার গ্রহণ: রমজানের প্রথম দিনে একটি রোহিঙ্গা পরিবারের সাথে বসে তিনি ইফতার করেন এবং বাংলাদেশকে প্রায় এক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।
কক্সবাজারে মেসুত ওজিলের কনভয়ে সড়ক দুর্ঘটনা
কক্সবাজারে সফর শেষে ফেরার পথে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, যা অনেক ভক্তকে উদ্বিগ্ন করেছিল।
- ঘটনার সময় ও স্থান: ১৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের কুতুপালং এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
- কীভাবে ঘটলো: মেসুত ওজিল ও ভিভিআইপি প্রতিনিধিদলের কনভয়ে থাকা পুলিশের একটি গাড়ির সাথে হঠাৎ করে মহাসড়কে উঠে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার (টোটো) সংঘর্ষ হয়।
- বর্তমান অবস্থা: দুর্ঘটনায় অটোরিকশা চালক গুরুতর আহত হলেও, মেসুত ওজিল এবং বিলাল এরদোগান সম্পূর্ণ নিরাপদ ও অক্ষত ছিলেন। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং আহত চালককে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
বাংলাদেশীদের জন্য এই সফরের তাৎপর্য
বাংলাদেশী ক্রীড়াপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের কাছে এই সফরের একটি বড় প্রভাব রয়েছে। প্রথমত, একজন বিশ্ব তারকার উপস্থিতি বাংলাদেশের আতিথেয়তাকে বিশ্বদরবারে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেছে। দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গা সমস্যার মতো একটি আন্তর্জাতিক সংকটে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণে ওজিলের এই সফর অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। তুরস্ক এবং বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককেও এই সফর আরও দৃঢ় করেছে।
People Also Ask (FAQ)
মেসুত ওজিল কবে বাংলাদেশে আসেন?
মেসুত ওজিল ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে একটি মানবিক ও উন্নয়নমূলক সফরে বাংলাদেশে পৌঁছান।
Mesut Ozil Bangladesh সফরে কি কোনো দুর্ঘটনায় পড়েছিলেন?
হ্যাঁ, ১৯ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে তার ভিভিআইপি কনভয়ের একটি পুলিশের গাড়ির সাথে একটি অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। তবে ওজিল এবং তার সঙ্গীরা সম্পূর্ণ সুস্থ ও অক্ষত ছিলেন।
মেসুত ওজিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন গিয়েছিলেন?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টার’-এর আধুনিক চিকিৎসা সেবার উদ্বোধন করতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন, যা তুরস্কের সংস্থা TIKA-এর অর্থায়নে সম্পন্ন হয়েছে।
মেসুত ওজিলের সাথে আর কে কে বাংলাদেশে এসেছিলেন?
তার সাথে তুরস্কের একটি ১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল ছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের ছেলে নেকমেত্তিন বিলাল এরদোগান এবং TIKA-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
তথ্যসূত্র (Credible Sources): The Business Standard, Dhaka Tribune, Daily Star ও অন্যান্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
I’m Md Parvez Hossen. I’m professional Blogger and SEO expert. I’m Living in USA.