হরমুজ প্রণালীতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা

পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। ইরান প্রায় ২ থেকে ৬ হাজার সস্তা কিন্তু বিধ্বংসী নেভাল মাইন ব্যবহার করে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ রুট বন্ধ করার হুমকি দিচ্ছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছে এবং একটি ইরানি ফ্রিগেট ডুবিয়ে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছুঁইছুঁই করছে, যা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশে জ্বালানি খরচ, পরিবহন ভাড়া এবং নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির প্রবল ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিশ্ব অর্থনীতির ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী এখন একটি জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হয়েছে। একদিকে ইরানের ছদ্মবেশী আক্রমণ এবং অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রণতরীর গর্জন—সব মিলিয়ে পারস্য উপসাগরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই নিবন্ধে আমরা জানবো, কীভাবে একটি সস্তা অস্ত্র ব্যবহার করে ইরান পরাশক্তি আমেরিকাকে চ্যালেঞ্জ করছে এবং এই উত্তেজনার ফলে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

হরমুজ প্রণালী কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

হরমুজ প্রণালী শুধু একটি সামুদ্রিক পথ নয়, এটি বিশ্ব অর্থনীতির প্রাণভোমরা।

  • তেল সরবরাহ: প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
  • অর্থনৈতিক প্রভাব: এই পথটি বন্ধ হয়ে গেলে ইউরোপ থেকে এশিয়া পর্যন্ত চরম জ্বালানি সংকট দেখা দেবে এবং বিশ্বের চাকা থমকে যাবে।

ইরানের সস্তা কিন্তু বিধ্বংসী কৌশল: নেভাল মাইন

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বর্তমানে তাদের সবচেয়ে সস্তা কিন্তু ভয়ঙ্কর অস্ত্র ‘নেভাল মাইন’ ব্যবহার করছে।

  • বিশাল ভান্ডার: সমুদ্রের তলদেশে ইরান প্রায় ২ থেকে ৬ হাজার মাইন লুকিয়ে রেখেছে।
  • অদৃশ্য ঘাতক: এই মাইনগুলো এতোটাই শক্তিশালী যে, এগুলো একটি বিশাল অয়েল ট্যাংকারকে মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের কুণ্ডলীতে পরিণত করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা জবাব: ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’

ইরানের এই মাইনের জাল ছিন্ন করতে পেন্টাগন হাত গুটিয়ে বসে নেই। যৌথ কমান্ডের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র শুরু করেছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’

  • আকাশ ও জলপথে হামলা: আকাশ থেকে মার্কিন মিসাইল ইরানের মাইনবাহী জাহাজগুলো গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।
  • ইরানি রণতরী ধ্বংস: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডো ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের রণতরী ডুবিয়ে দিয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা ইরানি ফ্রিগেট ‘আইরিস দেনা’ (IRIS Dena) ধ্বংস করেছে।
  • কড়া হুঁশিয়ারি: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেট হেক্সেথ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি একটি মাইনও না সরানো হয়, তবে ইরানকে অকল্পনীয় পরিণতি ভোগ করতে হবে।
See also  ঘুম থেকে উঠার দোয়া: অর্থ, সঠিক উচ্চারণ ও সুন্নাহ আমল

মার্কিন নৌবাহিনীর বর্তমান চ্যালেঞ্জ

পুরনো ফাইবার গ্লাসের মাইন সুইপার জাহাজগুলো বিদায় নেওয়ায় মার্কিন নৌবাহিনী এখন একটি বড় শূন্যতায় ভুগছে। নতুন ‘ইন্ডিপেন্ডেন্স ক্লাস’ জাহাজগুলোর বডি মেটালের তৈরি হওয়ায় সেগুলো চুম্বকীয় মাইনের সহজ টার্গেটে পরিণত হতে পারে কি না, তা নিয়ে সামরিক বিশেষজ্ঞরা গভীরভাবে চিন্তিত।

অনেকেরই মনে প্রশ্ন থাকে

প্রশ্ন ১: নেভাল মাইন কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?

উত্তর: নেভাল মাইন হলো সমুদ্রের তলদেশে বা পানিতে ভাসমান অবস্থায় লুকিয়ে রাখা এক ধরনের বিস্ফোরক। কোনো জাহাজ বা সাবমেরিন এর সংস্পর্শে এলে বা কাছাকাছি চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি হলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিস্ফোরিত হয়ে জাহাজ ধ্বংস করে দেয়।

প্রশ্ন ২: যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ কী?

উত্তর: পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বিছানো নেভাল মাইন ধ্বংস করা এবং আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ রুট নিরাপদ রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের নাম হলো ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’।

প্রশ্ন ৩: হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে বিশ্বের কী ক্ষতি হবে?

উত্তর: প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে যায়। এটি বন্ধ হলে বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ জ্বালানি সংকট দেখা দেবে, তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে এবং ইউরোপ-এশিয়াসহ গোটা বিশ্বের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়বে।

Leave a Comment