সম্প্রতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠনের বৈঠকে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে চীন ও রাশিয়ার চরম বিবাদ তৈরি হয়েছে। পশ্চিমারা অভিযোগ করেছে যে, মস্কো ও বেইজিং ইরানকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়ার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সামরিক হামলার বৈধতা পেতে ইরানের পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে কৃত্রিম উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। শেষ পর্যন্ত পশ্চিমা দেশগুলো একজোট হওয়ায় ১১-২ ভোটের ব্যবধানে কমিটি গঠনের প্রস্তাবটি পাশ হয় এবং চীন-রাশিয়ার বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন কেবল রণাঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি গড়িয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ পর্যন্ত। সম্প্রতি ইরান ইস্যুতে বিশ্বের পরাশক্তিগুলো যেভাবে প্রকাশ্য বিবাদে জড়িয়েছে, তা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কী ঘটেছিল জাতিসংঘের সেই বৈঠকে? কেন চীন ও রাশিয়া প্রকাশ্যে ইরানের পক্ষ নিচ্ছে? আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই বৈশ্বিক উত্তেজনার ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর কী প্রভাব পড়বে? চলুন, এই এভারগ্রিন এক্সপ্লেইনার (Evergreen Explainer) থেকে পুরো বিষয়টি সহজ ভাষায় জেনে নেওয়া যাক।
জাতিসংঘে ঠিক কী ঘটেছিল?
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা তদারকির জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা।
- চীন ও রাশিয়ার বাধা: চীন এবং রাশিয়া শুরু থেকেই এই কমিটি গঠনের ঘোর বিরোধী ছিল এবং তারা এটি আটকাতে চেয়েছিল।
- পশ্চিমাদের একজোট হওয়া: পশ্চিমা দেশগুলো একজোট হয়ে ১১-২ ভোটের ব্যবধানে এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাশ করে। বাকি দুটি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।
- পশ্চিমাদের অভিযোগ: পশ্চিমা প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন যে, জাতিসংঘের সব সদস্যের উচিত ইরানের সাথে মিসাইল বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা, কিন্তু এর বদলে চীন ও রাশিয়া উল্টো ইরানকে রক্ষা করতে চাইছে।
চীন ও রাশিয়ার অবস্থান
পশ্চিমাদের এই পদক্ষেপের কড়া জবাব দিয়েছে মস্কো এবং বেইজিং। তারা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।
১. কৃত্রিম উত্তেজনা ও উস্কানি: রুশ প্রতিনিধি অভিযোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা জেনেশুনেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উস্কানি ছড়াচ্ছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সামরিক আগ্রাসনের পরিধি বাড়ানো এবং সামরিক হামলার একটি আইনি বৈধতা আদায় করা।
২. IAEA রিপোর্টের সাথে অমিল: রাশিয়ার মতে, মার্কিন প্রতিনিধিরা যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তার সাথে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) বাস্তব প্রতিবেদনের কোনো সামঞ্জস্য নেই।
৩. আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: চীনের প্রতিনিধি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে যোগ দিয়ে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করেছে। এর ফলে কূটনৈতিক সমাধানের সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে, যা সরাসরি আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
জাতিসংঘে ইরান নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর মূল দাবি কী?
উত্তর: পশ্চিমা দেশগুলো চায় ইরানের ওপর আরোপিত সামরিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন হোক এবং জাতিসংঘের সব সদস্য দেশ যেন ইরানের সাথে সব ধরনের মিসাইল বাণিজ্য নিষিদ্ধ করে।
চীন ও রাশিয়া কেন ইরানের পক্ষ নিচ্ছে?
উত্তর: চীন ও রাশিয়ার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই অঞ্চলে আগে হামলা চালিয়ে যুদ্ধ ছড়িয়েছে। তারা মনে করে, পশ্চিমারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অযথা উস্কানি দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী।
নিরাপত্তা পরিষদে ভোটের ফলাফল কী হয়েছিল?
উত্তর: ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা তদারকি কমিটি গঠনের প্রস্তাবে পশ্চিমা দেশগুলো জয়ী হয়। চীন ও রাশিয়া বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ১১-২ ভোটের ব্যবধানে প্রস্তাবটি পাশ হয়।
এই সংঘাতের শুরু কীভাবে হয়েছিল?
উত্তর: পশ্চিমা দেশগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল প্রথমে ইরানে হামলা চালিয়েছিল, যার জের ধরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়েছে।
I’m Md Parvez Hossen. I’m professional Blogger and SEO expert. I’m Living in USA.