মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন যে, ইরাকে মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে? নাকি ইরানে একটি কেসি 135 বিধ্বস্ত হয়েছে? আপনি যদি এই ঘটনার আসল সত্য, বিমানের অবস্থান এবং এর পেছনের কারণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে চান, তবে এই সম্পূর্ণ গাইডলাইনটি আপনার জন্য।
ইরাকে কি মার্কিন সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে? হ্যাঁ, ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে পশ্চিম ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কেসি-১৩৫ (KC-135 Stratotanker) সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে।
ইরানে কি কোনো কেসি-১৩৫ বিধ্বস্ত হয়েছে? না, ইরানে কোনো মার্কিন কেসি-১৩৫ বিধ্বস্ত হয়নি। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-এর তথ্যমতে, এই দুর্ঘটনাটি ইরাকের আকাশসীমায় ঘটেছে। এটি কোনো শত্রুপক্ষের হামলায় (Hostile fire) বা নিজেদের ভুল হামলায় (Friendly fire) বিধ্বস্ত হয়নি, বরং আকাশে দুটি বিমানের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘর্ষের (Mid-air collision) কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
ইরাকে মার্কিন কেসি-১৩৫ বিমান বিধ্বস্ত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury)-এর অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম চলছে। এরই মধ্যে পশ্চিম ইরাকের আকাশে একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং পেন্টাগনের লেটেস্ট আপডেট অনুযায়ী:
- দুটি বিমানের সম্পৃক্ততা: সেন্টকম (CENTCOM) জানিয়েছে, এই ঘটনায় দুটি মার্কিন কেসি-১৩৫ বিমান জড়িত ছিল। এর মধ্যে একটি বিমান পশ্চিম ইরাকে বিধ্বস্ত হয় এবং অপরটি জরুরি সংকেত দিয়ে ইসরাইলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ক্ষতিগ্রস্ত লেজ নিয়ে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
- হতাহতের সংখ্যা: বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটিতে ৬ জন ক্রু ছিলেন। সেন্টকম নিশ্চিত করেছে যে, এর মধ্যে ৪ জন নিহত হয়েছেন এবং বাকিদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
- শত্রুর হামলা নয়: ইরাকের ইরান-সমর্থিত কিছু গোষ্ঠী বিমানটি ভূপাতিত করার দাবি করলেও, মার্কিন সামরিক বাহিনী স্পষ্ট জানিয়েছে যে এটি কোনো মিসাইল বা শত্রুপক্ষের হামলায় বিধ্বস্ত হয়নি। এটি সম্পূর্ণ একটি দুর্ঘটনা।
ইরানে কি কোনো কেসি-১৩৫ বিধ্বস্ত হয়েছে?
অনলাইনে অনেকেই সার্চ করছেন যে ইরানে কোনো বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে কিনা। এর স্পষ্ট উত্তর হলো— না, ইরানে মার্কিন সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়নি। যেহেতু এই বিমানগুলো ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে (Operation Epic Fury) যুদ্ধবিমানগুলোকে সহায়তা করছিল, তাই খবরের শিরোনামে ‘ইরান’ ও ‘যুক্তরাষ্ট্র’ শব্দগুলো দেখে পাঠকরা স্থান নিয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। ঘটনাস্থলটি মূলত পশ্চিম ইরাক।
কেসি-১৩৫ (KC-135) উড়োজাহাজ যুদ্ধক্ষেত্রে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
সময় টিভির একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে এই ট্যাংকার উড়োজাহাজগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- জ্বালানি সরবরাহ: লক্ষ্যবস্তু অনেক দূরে হলে ফাইটার জেট বা বোমারু বিমানগুলোকে মাঝ আকাশে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ করে এগুলো সচল রাখে।
- বিশাল বহর: মার্কিন বিমান বাহিনীর এয়ার মোবিলিটি কমান্ডের বহরে এ ধরনের প্রায় ৪০০টি ট্যাংকার বিমান রয়েছে। দীর্ঘ ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এগুলো আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বৈশ্বিক সামরিক অভিযানে সহায়তা দিচ্ছে।
- উৎপাদন খরচ: ১৯৯৮ সালের স্থির ডলারের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি কেসি-১৩৫ উড়োজাহাজের উৎপাদন খরচ ছিল প্রায় ৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। এগুলো তৈরি করেছে বিখ্যাত বোয়িং কোম্পানি। বর্তমানে নতুন করে তৈরি না করে পুরনো বিমানগুলোকেই বিপুল অর্থ ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।
কীভাবে আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় জ্বালানি সরবরাহ করা হয়? (Step-by-Step)
আকাশে একটি বিমান থেকে আরেকটি বিমানে জ্বালানি নেওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল ও রোমাঞ্চকর:
- নল নামানো: প্রথমে ট্যাংকার উড়োজাহাজ থেকে একটি বিশেষ নল নিচে নামিয়ে দেয়া হয়।
- কাছাকাছি অবস্থান: জ্বালানি গ্রহণকারী যুদ্ধবিমানকে বিশাল ট্যাংকারের খুব কাছ দিয়ে (মাত্র কয়েক ফুট দূরত্বে) উড়তে হয়।
- সংযোগ স্থাপন: যুদ্ধবিমানের পাইলট ট্যাংকারের নিচের আলোক সংকেত অনুসরণ করে নলের দিকে এগিয়ে যান এবং নিজের অবস্থান সমন্বয় করেন।
- স্থানান্তর ও সতর্কতা: সংযোগ স্থাপিত হওয়ার পর জ্বালানি স্থানান্তর হতে কয়েক মিনিট সময় লাগে। শত্রুর নজর এড়াতে অনেক সময় এই অপারেশনের সময় উড়োজাহাজের সব আলো নেভানো থাকে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: ইরাকে বিধ্বস্ত মার্কিন বিমানে কতজন ক্রু ছিলেন?
উত্তর: বিধ্বস্ত হওয়া কেসি-১৩৫ বিমানটিতে মোট ৬ জন ক্রু ছিলেন। সাধারণত এই বিমানে ৩ জন ক্রু (পাইলট, কো-পাইলট এবং বুম অপারেটর) থাকেন। তবে বিশেষ সামরিক অভিযানের কারণে এই ফ্লাইটে অতিরিক্ত ক্রু উপস্থিত ছিলেন।
প্রশ্ন: মার্কিন বিমানটি কি ইরান বা ইরাকের কোনো গোষ্ঠী গুলি করে নামিয়েছে?
উত্তর: না। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) নিশ্চিত করেছে যে বিমানটি কোনো শত্রুপক্ষের হামলায় (Hostile fire) বা নিজেদের ভুল হামলায় (Friendly fire) বিধ্বস্ত হয়নি। এটি দুটি বিমানের মধ্যকার একটি যান্ত্রিক বা আকাশপথের দুর্ঘটনা।
প্রশ্ন: অপারেশন এপিক ফিউরি (Operation Epic Fury) কী?
উত্তর: এটি হলো ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযানের নাম, যা ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়। এই অভিযানের অংশ হিসেবেই মার্কিন বিমানটি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে টহল দিচ্ছিল।
প্রশ্ন: কেসি-১৩৫ বিমান কে তৈরি করে?
উত্তর: কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার বিমানগুলো বিখ্যাত মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘বোয়িং’ (Boeing) তৈরি করেছে।
I’m Md Parvez Hossen. I’m professional Blogger and SEO expert. I’m Living in USA.