নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের ভূমিকা অপরিসীম। আপনি যদি একজন সরকারি চাকরিজীবী বা শিক্ষক হন এবং আপনাকে নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হয়ে থাকে, তবে আপনার মনে নিশ্চয়ই প্রশ্ন জাগছে আপনার পরিশ্রমের বিনিময়ে নির্বাচন কমিশন (EC) থেকে কত টাকা সম্মানি ভাতা দেওয়া হবে?
এই আর্টিকেলে আমরা প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসারদের ভাতার পরিমাণ, দায়িত্ব এবং আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
এক নজরে: কার ভাতা কত?
আপনার সময়ের মূল্য দিতে প্রথমেই মূল উত্তরটি জানিয়ে দিচ্ছি। সর্বশেষ নির্দেশনা ও আপনার প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী সম্মানি ভাতার হার নিম্নরূপ:
- প্রিজাইডিং অফিসার: ৯,০০০ টাকা
- সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার: ৭,০০০ টাকা
- পোলিং অফিসার: ৫,০০০ টাকা
নোট: এই অর্থ শুধুমাত্র নির্বাচনী দিনে দায়িত্ব পালনের ‘সম্মানি’ হিসেবে প্রদান করা হয়। যাতায়াত বা প্রশিক্ষণ ভাতা সাধারণত এর সাথে আলাদাভাবে যুক্ত হতে পারে।
পদ অনুযায়ী ভাতার বিস্তারিত ও দায়িত্বসমূহ
নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি ভোটকেন্দ্র পরিচালনার জন্য তিন স্তরের কর্মকর্তা কাজ করেন। পদমর্যাদা ও দায়িত্বের ওপর ভিত্তি করে তাদের ভাতার পরিমাণে ভিন্নতা থাকে।
১. প্রিজাইডিং অফিসার (Presiding Officer)
একটি ভোটকেন্দ্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হলেন প্রিজাইডিং অফিসার।
- সম্মানি ভাতা: ৯,০০০ টাকা।
- প্রধান দায়িত্ব: ভোটকেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, ব্যালট পেপার বা ইভিএম বুঝে নেওয়া এবং দিনশেষে ভোটের ফলাফল রিটার্নিং অফিসারের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তার কাঁধেই থাকে কেন্দ্রের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
২. সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার (Assistant Presiding Officer)
প্রতিটি বুথ বা ভোটকক্ষ পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার।
- সম্মানি ভাতা: ৭,০০০ টাকা।
- প্রধান দায়িত্ব: নির্দিষ্ট বুথের ভোটারদের পরিচয় শনাক্ত করা, ব্যালট পেপার ইস্যু করা এবং প্রিজাইডিং অফিসারকে সার্বিক কাজে সহায়তা করা।
৩. পোলিং অফিসার (Polling Officer)
সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে সাহায্য করার জন্য পোলিং অফিসাররা থাকেন।
- সম্মানি ভাতা: ৫,০০০ টাকা।
- প্রধান দায়িত্ব: ভোটারদের আঙুলে অমোচনীয় কালি লাগানো, ভোটার লিস্টে নাম চেক করা এবং ইভিএম বা ব্যালট বাক্স পর্যবেক্ষণে রাখা।
নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সম্মানি ভাতার তালিকা
দ্রুত এবং সহজে বোঝার জন্য নিচের টেবিলটি দেখুন:
| পদের নাম | ভাতার পরিমাণ (টাকা) |
| প্রিজাইডিং অফিসার | ৯,০০০/- |
| সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার | ৭,০০০/- |
| পোলিং অফিসার | ৫,০০০/- |
সাধারণ জিজ্ঞাসা
নির্বাচনী দায়িত্ব ও ভাতা নিয়ে মানুষের মনে থাকা সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
এই টাকা কি নগদে দেওয়া হয় নাকি ব্যাংকে?
সাধারণত নির্বাচনের পরের দিন বা ফলাফল জমা দেওয়ার সময় রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে এই টাকা নগদে (Cash) বা চেক/মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেওয়া হয়। তবে এলাকাভেদে এর পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে।
প্রশিক্ষণের জন্য কি আলাদা টাকা পাওয়া যায়?
হ্যাঁ। উপরের ছবিতে যে টাকার অংক উল্লেখ করা হয়েছে তা মূলত ভোটের দিনের দায়িত্বের জন্য। এর বাইরে নির্বাচনের আগে যে প্রশিক্ষণ (Training) অনুষ্ঠিত হয়, তার জন্য সাধারণত আলাদা যাতায়াত ও আপ্যায়ন ভাতা দেওয়া হয়ে থাকে।
কেউ যদি দায়িত্ব পালন করতে না চায়, তবে কী হবে?
নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী, গেজেটভুক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করা বাধ্যতামূলক। উপযুক্ত কারণ (যেমন: গুরুতর অসুস্থতা) ছাড়া দায়িত্ব অবহেলা করলে Representation of the People Order (RPO) অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জন্য জরুরি কিছু টিপস
দায়িত্ব পালনের সময় নিজের নিরাপত্তা ও কাজের সুবিধার্থে এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন:
- নিয়োগপত্র যাচাই: আপনার নিয়োগপত্রে ভাতার পরিমাণ এবং দায়িত্বের স্থান সঠিক আছে কিনা দেখে নিন।
- খাবার ও পানি: ভোটের দিন অনেক সময় খাবারের ব্যবস্থা হতে দেরি হতে পারে, তাই সাথে শুকনো খাবার ও পানি রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
- যোগাযোগ: জরুরি প্রয়োজনে রিটার্নিং অফিসার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নম্বর সাথে রাখুন।
শেষ কথা
নির্বাচন একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। প্রিজাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে পোলিং অফিসার—প্রত্যেকের আন্তরিক প্রচেষ্টায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন হয়। ৯,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকার এই সম্মানি মূলত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের একটি স্বীকৃতি মাত্র।
আপডেট: এই তথ্যটি সর্বশেষ নির্বাচনী নির্দেশিকা ও প্রদত্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতি সাপেক্ষে এই ভাতার পরিমাণ পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে।
উৎস: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বিজ্ঞপ্তি ও নির্বাচনী ম্যানুয়াল।
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”

