রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেওয়ায় সংসদ থেকে বের হয়ে গেল জামায়াত ও এনসিপি

রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেওয়ায় সংসদ থেকে বের হয়ে গেল জামায়াত ও এনসিপি

ত্রয়দশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করার পরপরই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি (NCP)-এর সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান বা ওয়াকআউট করেন। বিগত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে’ রাষ্ট্রপতির বিতর্কিত ভূমিকার জেরে বিরোধী দলগুলো তাকে ‘জুলাইয়ের গাদ্দার’ আখ্যা দিয়ে এই বয়কট কর্মসূচি পালন করে। এ সময় সংসদে সাময়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে স্পিকার সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

সাম্প্রতিক ত্রয়দশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকারের যাত্রা শুরুর দিনেই সংসদে দেখা গেছে অভাবনীয় এক দৃশ্য। রাষ্ট্রপতি তার উদ্বোধনী ভাষণ শুরু করতেই সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে শক্তিশালী বিরোধী দলের আসনে থাকা জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি (NCP)।

আসুন, ধাপে ধাপে জেনে নিই সংসদে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কেন বিরোধী দলগুলো এমন কঠোর অবস্থান নিল।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় সংসদে যা ঘটেছিল

নিয়ম অনুযায়ী সংসদের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি তার দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দিতে শুরু করেন। কিন্তু তিনি বক্তব্য শুরু করার সাথে সাথেই সংসদে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

  • প্রতিবাদ ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন: বিরোধী দলের সদস্যরা নিজেদের আসন থেকে দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেন এবং ‘জুলাইয়ের গাদ্দার’ লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
  • স্পিকারের হস্তক্ষেপ: পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্পিকার সদস্যদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “মাননীয় সদস্যবৃন্দ সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষা করুন অনুগ্রহ করে নিজের আসনে বসে পড়ুন, ভাষণ শুনুন”
  • চূড়ান্ত ওয়াকআউট: স্পিকারের আহ্বানের পরও প্রতিবাদকারী সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করে একযোগে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।

কেন জামায়াত ও এনসিপি রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করল?

জনমনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো নতুন সংসদের প্রথম দিনেই কেন এই ওয়াকআউট? এর পেছনে মূলত সুস্পষ্ট কয়েকটি রাজনৈতিক ও নৈতিক কারণ রয়েছে:

  1. জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ক্ষোভ: গত জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও বর্তমান বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে।
  2. শহীদদের প্রতি সম্মান: জামায়াত ও এনসিপি মনে করে, হাজারো ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে এই নতুন বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। তাই গণঅভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারীদের কাছ থেকে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ শোনা শহীদদের রক্তের প্রতি অবমাননাকর।
  3. শক্তিশালী বিরোধী দলের বার্তা: এটি শুধু একটি ওয়াকআউট ছিল না, বরং সরকারের পাশাপাশি সংসদে যে একটি আপসহীন বিরোধী দল রয়েছে, এটি তারই একটি শক্ত রাজনৈতিক বার্তা।

রাষ্ট্রপতির ভাষণে কী বলা হয়েছিল?

বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পরও রাষ্ট্রপতি তার নির্ধারিত ভাষণ চালিয়ে যান। দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার ভাষণের মূল বিষয়বস্তুগুলো ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:

  • ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান: তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, হাজারো শহীদের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান হয়েছে।
  • অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন: একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এই ত্রয়দশ জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছে বলে তিনি জানান।
  • নতুন সরকারকে অভিনন্দন: রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারকে এবং বিপুল ভোটে জয়লাভ করা সংসদ সদস্যদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

এই ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্য

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক গণতান্ত্রিক চর্চার ইঙ্গিত দেয়। বিগত বছরগুলোতে সংসদে কার্যত কোনো বিরোধী দল ছিল না বললেই চলে। কিন্তু ত্রয়দশ সংসদে জামায়াত ও এনসিপির এই সরব উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, এবার সংসদে জনগণের দাবি ও ক্ষোভের কথা সরাসরি তুলে ধরার মতো শক্তিশালী বিরোধী দল রয়েছে।

সাধারন জিজ্ঞাসা

ত্রয়দশ জাতীয় সংসদের প্রধানমন্ত্রী কে হয়েছেন?

ত্রয়দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান।

বর্তমান সংসদে বিরোধী দল কারা?

বর্তমান সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি (NCP) সহ আরও কয়েকজন সদস্য শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।

এনসিপি (NCP) ও জামায়াত কেন সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে?

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতির বিতর্কিত ভূমিকার প্রতিবাদস্বরূপ এবং তাকে ‘জুলাইয়ের গাদ্দার’ আখ্যা দিয়ে জামায়াত ও এনসিপি রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কটের সময় স্পিকার কী বলেছিলেন?

সংসদে হট্টগোল শুরু হলে স্পিকার সংসদ সদস্যদের শৃঙ্খলা বজায় রেখে নিজেদের আসনে বসার এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ শোনার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন।

তথ্যসূত্র ও বিশ্বাসযোগ্যতা: এই আর্টিকেলের যাবতীয় তথ্য স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম DBC NEWS এবং অন্যান্য প্রথম সারির জাতীয় গণমাধ্যমের সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিও ফুটেজ থেকে সংগৃহীত।

Leave a Comment

Scroll to Top