ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ-এর প্রথম অধিবেশনে নতুন স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে কণ্ঠভোটে নির্বাচিত হয়েছেন প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। নতুন এই সংসদ অধিবেশন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন-এর মতো বর্ষীয়ান নেতারাও সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় নতুন সংসদ একটি মাইলফলক। দীর্ঘ রাজনৈতিক পালাবদলের পর দেশে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে এবং এর প্রথম অধিবেশন বসেছে। আইন প্রণয়ন ও দেশের সার্বিক নীতি নির্ধারণে এই সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলুন, বর্তমান স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং এই সংসদের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত জেনে নিই।

স্পিকার হিসেবে মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ-এর দায়িত্ব গ্রহণ

প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর হাফিজ (যার পূর্ণ নাম হাফিজ উদ্দিন আহমদ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছেন। একজন অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার।

  • সামরিক ও রাজনৈতিক জীবন: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের পর তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হন।
  • সংসদীয় অভিজ্ঞতা: এর আগেও তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং সরকারের মন্ত্রিসভায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
  • নতুন দায়িত্ব: স্পিকার হিসেবে তাঁর মূল দায়িত্ব হলো সংসদের কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা, সকল দলের সদস্যদের কথা বলার সমান সুযোগ দেওয়া এবং সংসদীয় রীতিনীতি বজায় রাখা।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ-এর এই নিয়োগ দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংসদে সবার অংশগ্রহণমূলক বিতর্কের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডেপুটি স্পিকার পদে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

আইন অঙ্গনে অত্যন্ত সুপরিচিত মুখ কায়সার কামাল এবার জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

  • আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি: সুপ্রিম কোর্টের একজন খ্যাতিমান আইনজীবী হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছেন।
  • রাজনৈতিক অবস্থান: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন।
  • সংসদে ভূমিকা: ডেপুটি স্পিকার হিসেবে স্পিকারের অনুপস্থিতিতে তিনি সংসদ অধিবেশন পরিচালনা করবেন এবং বিভিন্ন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কার্যক্রমে সহায়তা ও তদারকি করবেন।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশন

নতুন এই সংসদ অধিবেশন শুধু নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অধিবেশনে সিনিয়র রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন-এর মতো নেতাদের উপস্থিতি সংসদের গাম্ভীর্য ও অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করেছে। একজন প্রবীণ নেতা হিসেবে তাঁর দিকনির্দেশনা ও সংসদীয় বক্তব্য নতুন সংসদ সদস্যদের জন্য অত্যন্ত শিক্ষণীয়।

স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার কীভাবে নির্বাচিত হন?

জাতীয় সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি সংবিধানে উল্লেখিত একটি নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়। এটি ধাপে ধাপে নিচে তুলে ধরা হলো:

১. প্রথম অধিবেশন শুরু: নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হলে এই নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

২. প্রস্তাব উত্থাপন: সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে যেকোনো একজন সদস্য স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার পদের জন্য অন্য একজন সদস্যের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব করেন।

৩. প্রস্তাবে সমর্থন: প্রস্তাবিত নামটি অবশ্যই অন্য একজন সংসদ সদস্য কর্তৃক সমর্থিত হতে হয়।

৪. ভোটাভুটি: যদি একাধিক প্রার্থী থাকেন, তবে কণ্ঠভোট বা ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রার্থী একক হলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

৫. শপথ গ্রহণ: নির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে মাননীয় রাষ্ট্রপতি শপথ বাক্য পাঠ করান।

সাধারণ মানুষের জিজ্ঞাসা

১. বর্তমান জাতীয় সংসদের স্পিকার কে?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বর্তমান স্পিকার হলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

২. বর্তমান ডেপুটি স্পিকারের নাম কী?

বর্তমান ডেপুটি স্পিকার হলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

৩. ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশন কবে শুরু হয়েছে?

২০২৬ সালের মার্চ মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

শেষকথা

নতুন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল-এর নেতৃত্বে সংসদীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল এবং জবাবদিহিমূলক হবে বলে দেশের সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করে। একটি কার্যকরী সংসদই পারে দেশের মানুষের বাস্তব সমস্যার সমাধান দিতে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে।

Leave a Comment

Scroll to Top