সিমের মালিকানা কিভাবে চেক করব? বা সিম রেজিস্ট্রেশন কিভাবে চেক করব? এই প্রশ্নগুলোর সবচেয়ে সহজ উত্তর হলো আপনার মোবাইল থেকে *16001# ডায়াল করা। এটি বাংলাদেশের যেকোনো অপারেটরের (গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক, এয়ারটেল বা টেলিটক) জন্য প্রযোজ্য। কোডটি ডায়াল করার পর আপনার স্ক্রিনে জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) শেষ ৪ ডিজিট চাইবে। আপনি সম্ভাব্য মালিকের এনআইডি কার্ডের শেষের ৪টি সংখ্যা বসিয়ে সেন্ড করলে ফিরতি একটি এসএমএস (SMS)-এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে ওই এনআইডি দিয়ে কয়টি এবং কোন কোন নম্বর রেজিস্ট্রেশন করা আছে।
কেন সিমের মালিকানা জানা জরুরি?
আমরা অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে একটি সিম ব্যবহার করি, কিন্তু অনেক সময় মনে থাকে না যে সেটি নিজের, পরিবারের কোনো সদস্যের, নাকি অন্য কারও এনআইডি (NID) দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছিল। বর্তমান সময়ে নিজের নামে সিম রেজিস্ট্রেশন না থাকলে নানা রকম আইনি ও প্রযুক্তিগত জটিলতায় পড়তে হয়। বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ, রকেট) বা ই-গভর্নমেন্ট সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সিমের প্রকৃত মালিকানা নিজের নামে থাকা অত্যন্ত জরুরি।
কিভাবে মোবাইল রেজিস্ট্রেশন চেক করবেন?
আপনার ব্যবহৃত সিমটি কার নামে রেজিস্ট্রেশন করা, তা বের করার জন্য নিচের সহজ ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
ধাপ ১: ডায়াল প্যাড ওপেন করুন
প্রথমে যে সিমের মালিকানা জানতে চাচ্ছেন, সেই সিমটি আপনার মোবাইলে অ্যাক্টিভ রাখুন এবং ফোনের ডায়াল প্যাডে যান।
ধাপ ২: USSD কোড ডায়াল করুন
ফোনের ডায়াল প্যাড থেকে টাইপ করুন *16001# এবং কল বাটনে চাপুন। এই কোডটি সম্পূর্ণ ফ্রি এবং বাংলাদেশের সকল মোবাইল অপারেটরের জন্য কাজ করে।
ধাপ ৩: এনআইডি (NID) নম্বর দিন
কোডটি ডায়াল করার পর আপনার স্ক্রিনে একটি পপ-আপ মেসেজ আসবে। সেখানে সম্ভাব্য যার এনআইডি কার্ড দিয়ে সিমটি কেনা হয়েছিল বলে আপনার মনে হয়, তার এনআইডি কার্ডের শেষ ৪টি ডিজিট (Last 4 digits) বসিয়ে ‘Send’ অপশনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৪: ফিরতি এসএমএস যাচাই
তথ্য সঠিক হলে কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনার মোবাইলে একটি ফিরতি এসএমএস আসবে। ওই মেসেজে আপনি দেখতে পাবেন:
- ওই নির্দিষ্ট এনআইডি কার্ড দিয়ে মোট কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন করা আছে।
- রেজিস্ট্রেশন করা সিমগুলোর নম্বরের প্রথম ও শেষের কিছু অংশ (যেমন: 017XXXXX123)।
এখান থেকে আপনি সহজেই মিলিয়ে নিতে পারবেন আপনার ব্যবহৃত নম্বরটি ওই তালিকায় আছে কি না।
যদি ফিরতি এসএমএস না আসে, তবে কী করবেন?
ভিডিও টিউটোরিয়ালের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আপনি যদি ভুল এনআইডি কার্ডের শেষ ৪ ডিজিট দেন, তবে সিস্টেম থেকে কোনো ফিরতি মেসেজ আসবে না। অর্থাৎ, আপনি যে নম্বরটি দিয়েছেন, সেটি দিয়ে আপনার সিমটি বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন করা হয়নি।
এক্ষেত্রে আপনার করণীয় হলো:
- পরিবারের অন্য সদস্যদের (বাবা, মা বা ভাই-বোন) এনআইডি কার্ডের শেষ ৪ ডিজিট দিয়ে পুনরায় চেষ্টা করা।
- এরপরও যদি কাজ না হয়, তবে সিমটি নিয়ে সরাসরি আপনার ব্যবহৃত অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে (Customer Care) যোগাযোগ করা।
সাধারন জিজ্ঞাসিত
না, এটি সম্ভব নয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে আপনি শুধু সেই সিম থেকেই তথ্যটি জানতে পারবেন, যেই সিমটি ওই নির্দিষ্ট এনআইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে।
বিটিআরসি (BTRC)-এর বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশের একজন নাগরিক তার একটি জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে সর্বোচ্চ ১৫টি সিম রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন।
সিমের মালিকানা পরিবর্তন করতে হলে বর্তমান মালিক এবং আপনাকে (যিনি নিজের নামে নিতে চান) উভয়ের এনআইডি কার্ডের কপি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার বা বায়োমেট্রিক পয়েন্টে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে। সেখানে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে মালিকানা বদল করা যায়।
*16001# কোডটি কি সব সিমের জন্য কাজ করবে? হ্যাঁ, গ্রামীণফোন, রবি, এয়ারটেল, বাংলালিংক এবং টেলিটক বাংলাদেশের সকল মোবাইল অপারেটরের সিম রেজিস্ট্রেশন স্ট্যাটাস চেক করতে এই একই কোড ব্যবহার করা হয়।
তথ্যসূত্র (Sources):
- BTRC (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) এর অফিশিয়াল নির্দেশিকা।
- বাংলাদেশের বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের সাপোর্ট পোর্টাল।
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”

