আপনি কি ফেব্রুয়ারি মাসের অমাবস্যা কবে 2026 সালে হবে, সেই সঠিক তারিখটি খুঁজছেন? ধর্মীয় কাজ, পূর্বপুরুষদের তর্পণ কিংবা জ্যোতির্বিজ্ঞানের আগ্রহ যে কারণেই হোক না কেন, সঠিক সময় জানাটা জরুরি।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের অমাবস্যা অনুষ্ঠিত হবে ১৭ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার। অমাবস্যার New Moon Peak বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ০২ মিনিটে।এই দিনটি মূলত ফাল্গুন মাসের অমাবস্যা হিসেবে পালিত হবে।
Shutterstock
অমাবস্যা কত তারিখ ২০২৬?
অমাবস্যা মূলত একটি তিথি যা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থায়ী হয়। যারা উপবাস বা পূজা- অর্চনা করেন, তাদের জন্য তিথি কখন শুরু এবং কখন শেষ হচ্ছে তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে বাংলাদেশ সময় (BST) অনুযায়ী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের অমাবস্যার বিস্তারিত সময়সূচি দেওয়া হলো।
| বিবরণ | তারিখ ও বার | সময় (BST) |
| অমাবস্যা তিথি শুরু | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সোমবার | রাত ৩টা ১৫ মিনিট (আনুমানিক) |
| অমাবস্যা তিথি শেষ | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার | সন্ধ্যা ৬টা ০২ মিনিট |
| মূল অমাবস্যা পালন | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | মঙ্গলবার সারাদিন |
(দ্রষ্টব্য: লোকনাথ পঞ্জিকা বা বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা ভেদে সময়ের সামান্য কয়েক মিনিটের হেরফের হতে পারে, তবে মূল তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারিই থাকবে।)
এই অমাবস্যার গুরুত্ব ও তাৎপর্য
ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর এই অমাবস্যাটি বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ফাল্গুনী অমাবস্যা হিসেবে পরিচিত। বসন্ত ঋতুতে পড়ার কারণে এই অমাবস্যার একটি বিশেষ প্রাকৃতিক ও আধ্যাত্মিক আমেজ থাকে।
১. ধর্মীয় গুরুত্ব
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য এই দিনটি পিতৃপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য তর্পণ বা শ্রাদ্ধ করার জন্য অত্যন্ত শুভ। বিশ্বাস করা হয়, ফাল্গুন মাসের অমাবস্যায় দান-ধ্যান করলে মানসিক প্রশান্তি ও পূণ্য লাভ হয়।
২. কালসর্প দোষ নিবারণ
জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, যাদের জন্মছকে কালসর্প দোষ বা শনি গ্রহের সাড়ে সাতি চলছে, তাদের জন্য এই অমাবস্যায় বিশেষ পূজা বা রুদ্রাভিষেক করা খুব ফলদায়ক হতে পারে।
অমাবস্যায় কী করবেন আর কী করবেন না?
আমার দীর্ঘদিনের পঞ্জিকা বিশ্লেষণ ও ধর্মীয় রীতিনীতি পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু পরামর্শ নিচে দেওয়া হলো যা আপনার উপকারে আসবে:
যা করবেন (Do’s):
- স্নান ও দান: সকালে পবিত্র নদীতে বা বাড়িতে গঙ্গাজল মিশিয়ে স্নান করুন। এরপর সাধ্যমতো গরিবদের অন্ন বা বস্ত্র দান করুন।
- গাছ লাগানো: পরিবেশ রক্ষায় ও গ্রহদোষ কাটাতে এই দিনে একটি অশ্বত্থ বা বট গাছ রোপণ করতে পারেন।
- নিরামিষ ভোজন: শরীর ও মনকে শান্ত রাখতে এই দিন নিরামিষ আহার গ্রহণ করা শ্রেয়।
যা করবেন না (Don’ts):
- শুভ কাজ বর্জন: সাধারণত অমাবস্যা তিথিতে বিবাহ, গৃহপ্রবেশ বা নতুন ব্যবসার শুরু করা হয় না।
- দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা: এই দিন খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
- নেতিবাচক চিন্তা: অমাবস্যার সময় চাঁদের প্রভাব কম থাকায় অনেকের মানসিক অস্থিরতা বাড়ে, তাই নেতিবাচক চিন্তা বা ঝগড়া বিবাদ থেকে দূরে থাকুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
পাঠকদের মনে প্রায়ই যেসব প্রশ্ন জাগে, তার উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
১. ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কি দুটি অমাবস্যা আছে?
না, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটিই অমাবস্যা হবে, যা ১৭ তারিখে সংঘটিত হবে। তবে কোনো কোনো বছর মাস ২৯ বা ৩০ দিনের হলে এবং মাসের শুরুতে অমাবস্যা থাকলে দুটি অমাবস্যা হতে পারে, যা ‘ব্ল্যাক মুন’ নামে পরিচিত। ২০২৬-এ এমনটি হচ্ছে না।
২. ফাল্গুন মাসের অমাবস্যায় কি বিশেষ কোনো পূজা হয়?
হ্যাঁ, বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্দিরে এই সময় শিব পূজা এবং পিতৃ তর্পণের বিশেষ আয়োজন করা হয়। এছাড়াও শনি দেবের উদ্দেশ্যে তিল তেল ও কালো কাপড় দান করার রীতি প্রচলিত আছে।
৩. অমাবস্যায় কি যাত্রা করা শুভ?
শাস্ত্র মতে, অমাবস্যায় দূরভ্রমণ বা যাত্রা এড়িয়ে চলাই ভালো। তবে কর্মক্ষেত্রে বা জরুরি প্রয়োজনে যেতে হলে ইষ্টনাম জপ করে বের হওয়া যেতে পারে।
সিদ্ধান্ত
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অমাবস্যা বা নিউ মুন (New Moon) পালিত হবে ১৭ ফেব্রুয়ারি। যারা আধ্যাত্মিক সাধনা করেন কিংবা জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহী, তাদের জন্য এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আশা করি, এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত তথ্য সহজ ও স্পষ্টভাবে পেয়েছেন।
আপনার যদি পঞ্জিকা বা তিথি নিয়ে আরও কোনো সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন থাকে, তবে নিচে কমেন্ট করতে পারেন। আমরা দ্রুত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।
ডিসক্লেইমার: উপরে উল্লেখিত সময়সূচি বাংলাদেশ সময় (BST) এবং আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ডাটা অনুযায়ী তৈরি। ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে আপনার স্থানীয় পঞ্জিকা বা পুরোহিতের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind Banglakathan.com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.”

